ঢাকাসোমবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৩১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেরদৌসী কাদরীসহ এ পর্যন্ত ১২ ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ২:১৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 165 বার
Link Copied!

ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী বলেছেন, ডেলটার মতো করোনার অতিসংক্রামক ধরনের ভাইরাস যে আর আসবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সংলাপে এ কথা বলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এই প্রথিতযশা বিজ্ঞানীর সঙ্গে গণমাধ্যম সংলাপের আয়োজন করে।

গত ৩১ আগস্ট ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেরদৌসী কাদরীসহ এ পর্যন্ত ১২ ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নামে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। ১৯৫৮ সাল থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় প্রতিবছর ৩১ আগস্ট এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ৩১ আগস্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন।

কলেরার টিকা নিয়ে গবেষণা এবং সাশ্রয়ী দামে সহজলভ্য করে লাখো প্রাণ রক্ষায় কাজ করেছেন ফেরদৌসী কাদরী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাবিষয়ক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন তিনি।

ফেরদৌসী কাদরী বলেন, এখন বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ কমছে বটে; কিন্তু এতে খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের অনেক দেশে সংক্রমণ এভাবে কমে আবার বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে বেশি দরকার ব্যাপক হারে টিকা দেওয়া।

গণমাধ্যম সংলাপে ফেরদৌসী কাদরী বলেন, নারীদের লড়াই বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে শুধু নয়, সারা বিশ্বেই তা রয়েছে। এ লড়াই অনেক কঠিন। এতে ধৈর্য, সহনশীলতা, দায়িত্বশীলতা দরকার। দায়িত্ব শুধু কাজের ক্ষেত্রে নয়, পরিবারের সব সদস্যের প্রতিও তা পালন করা দরকার। তবে লড়াইটা বেশ কঠিন।

ফেরদৌসী কাদরী বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে একজন বাংলাদেশি। মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় আমি বর্তমান পর্যায়ে আসতে পেরেছি। পেয়েছি স্বামীসহ পরিবারের সবার অকুণ্ঠ সহযোগিতা। আমার প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতাও আমি পেয়েছি।’

ফেরদৌসী কাদরী যেদিন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান, ঠিক তার পরের দিন তাঁর স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ সালেহীন কাদরী মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় স্ত্রীর ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার খবর বাংলাদেশের প্রথিতযশা এই বিজ্ঞানশিক্ষক আর জেনে যেতে পারেননি। ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বিজ্ঞানচর্চার কঠিন পথে তিনি তাঁর স্বামীর সার্বক্ষণিক সহযোগিতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নতুন প্রজন্মের নারী, যাঁরা বিজ্ঞানের কাজে আসতে চান, তাঁদের জন্য বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌসী কাদরী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের ছেলে–মেয়ে সবার জন্যই বার্তা দিতে চাই। তা হলো, বিজ্ঞানের অর্জনটা দীর্ঘমেয়াদি। এখন অনেকেই বাণিজ্য শাখায় লেখাপড়া করে অর্থ উপার্জন করতে চায়। এটা অবশ্য দোষের কিছু নয়। অনেকের পারিবারিক দায়বদ্ধতা থাকে। সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না।’

ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বিজ্ঞানচর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার তাঁদের সক্ষমতা অনুসন্ধান করা। তাঁরা তাঁদের পারিবারিক দায়িত্ব অবশ্যই সামলাবেন। কিন্তু নিজেদের পেশার প্রতিও যত্নবান হবেন। বড় জায়গায় যেতে হলে নয়টা থেকে পাঁচটা অফিসের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।