ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্পদ তদন্তের নির্দেশ

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পঠিত: 267 বার
Link Copied!

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফের সম্পদ ও দায় বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি পীর ও তাঁর সহযোগীরা দেশের ছয় জেলায় পৃথক মামলা দিয়ে রিট আবেদনকারীদের হয়রানি করছেন বলে যে অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে সিআইডিকে।

সাত বছর বয়সী শিশু, দুজন নারী, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ আট ব্যক্তির করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে রাজারবাগ দরবারের কালো তালিকভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন আছে—জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এমন অভিমতের বিষয়ে তাদের জঙ্গিসম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সিটিটিসিকেও আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগী দেশের ৬টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন অভিযোগ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে ওই ৮ ব্যক্তি ১৬ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করেন, যার ওপর আজ শুনানি হয়।
আদালত বলেছেন, তদন্ত কাজে তিনটি সংস্থা মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া রিট আবেদনকারীদের অযথা হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার বাদী মফিজুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী কুমার দেবুল দে শুনানি করেন।

এর আগে ৪৯ মামলার চক্করে পড়ে একরামুল আহসান নামের ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই সব মামলা দায়ের ও এর পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদনে একরামুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা মামলার পেছনে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য এসেছে।

এ অবস্থায় আট ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গত বৃহস্পতিবার ওই রিট আবেদন করেন। সেদিন তিনি জানান, দেশের ৬টি জেলায় ৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বাদীর নাম থাকলেও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। একরামুলের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর অনেক বাদী ও সাক্ষীর সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বাদী ও সাক্ষীর নামের মিল পাওয়া যায়। তাই রাজারবাগের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। রুলে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি করায় দিল্লুর রহমান ও তাঁর ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক, র‍্যাবের মহাপরিচালক, দুদক চেয়ারম্যান, রাজারবাগ দরবার শরিফ, দিল্লুর রহমানসহ ২০ জনকে বিবাদী করে রুলের জবাব দিতে হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।