আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনার টিকার উভয় ডোজ গ্রহণকারীদের শরীরে এর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছে

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 316 বার
Link Copied!

করোনার টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ৫০ শতাংশের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। অথচ তাঁরা যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা টেরই পাননি। তবে এই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব কম। করোনার টিকার উভয় ডোজ গ্রহণকারীদের শরীরে এর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়েছে। টিকা নেওয়ার ছয় মাসের বেশি সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবডি ভালোভাবে বিদ্যমান ছিল।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট ‘কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডির ব্যাপকতা ও পরিমাণ শনাক্তকরণ’ শীর্ষক এক জরিপ গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। অ্যান্টিবডির (IgG) উপস্থিতি ও পরিমাণ Enzyme-Linked Immunosorbent Assay (ELISA) test মেথডে এ গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় সেরোপজিটিভিটি (রক্তে সার্স কোভ-২–এর অ্যান্টিবডির উপস্থিতি) সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর হাতে এসেছে।

সিভাসুর উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ এ জরিপ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া সিভাসুর অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক এম এ হাসান চৌধুরী, চিকিৎসক জাহান আরা, সিরাজুল ইসলাম, তারেক উল কাদের, আনান দাশ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ইয়াসির হাসিব, তাজরিনা রহমান ও সীমান্ত দাশ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

গবেষণায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৭৪৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা করোনার ঝুঁকিতে ছিলেন। এর মধ্যে সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, রোগীর অভিভাবক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পোশাকশ্রমিকেরা ছিলেন। গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ গবেষণা চলে।

৬ মাসের বেশি ছিল অ্যান্টিবডি
গবেষণায় দেখা যায়, মোট ৭৪৬ জনের মধ্যে প্রায় ২২৩ জন (৩০ শতাংশ) কোভিড-১৯ টিকার শুধু প্রথম ডোজ নিয়েছেন। উভয় ডোজ নিয়েছেন ২৩১ জন (৩১ শতাংশ) আর টিকা নেননি ২৯২ জন (৩৯ শতাংশ)। করোনার টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশের মধ্যে অ্যান্টিবডির অস্তিত্ব মিলেছে। উভয় ডোজ গ্রহণকারী ৯৯ শতাংশের বেশির ভাগের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অ্যান্টিবডি ছিল।

অধ্যাপক এম এ হাসান চৌধুরী বলেন, অনেকে উপসর্গহীনভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে যে ৫০ শতাংশের অ্যান্টিবডি রয়েছে, তাঁরা যে আক্রান্ত ছিলেন, হয়তো তা টেরই পাননি। কিন্তু তাঁদের অ্যান্টিবডি দীর্ঘস্থায়ী না–ও থাকতে পারে। টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে।

কোন ডোজে কত অ্যান্টিবডি
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি (IgG) তৈরি হয়েছে (গড়ে ৫৩.৭১ ডিইউ/মিলি), এর চেয়ে গড়ে প্রায় তিন গুণ বেশি অ্যান্টিবডি (১৫৯.০৮ ডি ইউ/মিলি) তৈরি হয়েছে যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের শরীরে। আবার তাঁদের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি (২৫৫.৪৬ ডি ইউ/মিলি) পাওয়া গেছে যাঁরা উভয় ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে।

গবেষকেরা মনে করেন, চলমান টিকার আওতায় সবাইকে আনতে হবে। আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী নয়। সিভাসুর উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, টিকা সবাইকে নিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ছয় মাস পরও কোভিড-১৯ সুরক্ষা দেওয়ার মতো অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।