ঢাকারবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দীর্ঘ সৈকতের পয়েন্টে ‘গিজগিজ’ অবস্থা হাজারো পর্যটক

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 301 বার
Link Copied!

রোববার বিকেল চারটা। কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার দীর্ঘ সৈকতের এ পয়েন্টে ‘গিজগিজ’ অবস্থা হাজারো পর্যটকে। টানা কয়েক দিনের ছুটির সময় হলে এ সংখ্যা বেড়ে যায় তিন গুণ।

পর্যটকদের কেউ উত্তাল সমুদ্রে নেমে গোসলে ব্যস্ত, কেউ কোমরপানিতে নেমে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ দ্রুতগতির জলযান জেট স্কি কিংবা স্পিডবোট নিয়ে দৌড়ঝাঁপ দেন গভীর জলরাশিতে। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বালুচরের এপ্রান্ত–ওপ্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য নিত্যনৈমিত্তিক।

সুগন্ধার দক্ষিণ দিকের কলাতলী, উত্তর দিকের সিগাল, লাবণী, শৈবাল ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সৈকতে প্রতিদিন সমাগম ঘটে অন্তত ১০ হাজার পর্যটকের। ভরা মৌসুমে এ চার কিলোমিটারে একসঙ্গে তিন লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটার রেকর্ডও আছে।

সুগন্ধা পয়েন্টের সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে ঝাউবনের পাশে একাকী দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকার রামপুরা থেকে আসা সাব্বির আহমদ (৪৫)। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট্ট জায়গায় মানুষের গিজগিজ অবস্থা ভালো লাগে না। করোনার ঝুঁকিও রয়ে গেছে। তাই নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এরপর সাব্বিরের পাল্টা প্রশ্ন, বিশ্বের দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার সৈকতের মাত্র ৪ কিলোমিটারে মানুষের গিজগিজ অবস্থা কেন? চার কিলোমিটারে এমন কী আছে, যা অন্য সৈকতে নেই?

সাব্বিরের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সি-সেফ লাইফগার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে। তিনি জানান, চার কিলোমিটার সৈকতের আশপাশেই ৯০ শতাংশ হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের অবস্থান। হোটেল থেকে সকাল, বিকেল কিংবা রাতে যখনই ইচ্ছা পর্যটকেরা সৈকতে নামতে পারেন। এখানে দোকানপাট, উন্নত মানের রেস্তোরাঁ, বিনোদনসুবিধা—সবই হাতের নাগালে। রাতের বেলায় আলোকিত থাকে সৈকত, নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, লাইফগার্ড, উদ্ধারকর্মী—সবই আছে। কিন্তু বাকি ১১০ কিলোমিটারে তার কিছুই নেই।

স্থানীয় লোকজন জানান, এই চার কিলোমিটারের বাইরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া, টেকনাফ সৈকতের ৬ কিলোমিটারেও পর্যটকদের পদচারণা থাকলেও বাকি ১১০ কিলোমিটার একেবারেই অব্যবহৃত।
ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তিন–চার দিনের টানা ছুটি পেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একসঙ্গে এক থেকে দুই লাখ পর্যটক ছুটে আসেন। ৯০ শতাংশ পর্যটকের বিচরণ থাকে ওই চার কিলোমিটার সৈকতেই। অবশিষ্ট ১১০ কিলোমিটার সৈকতকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

আবুল কাশেম সিকদারের মতে, চার কিলোমিটারের গিজগিজ অবস্থা দূর করতে বিনিয়োগকারীরা দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া, শীলখালী, টেকনাফ সৈকতে পৃথক ১০টি ‘ট্যুরিস্ট জোন’ তৈরির কথা বলছেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে পয়েন্টগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব। প্রতিটি পয়েন্টে পর্যটকের বসার জন্য ৫০০ চেয়ার-ছাতা, ৫০টির মতো দোকানপাট বসানো যায়। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসার ঘটত। এক জায়গায় গিজগিজ করা লোকগুলো ১০টি পয়েন্টে ভাগাভাগি হলে ঝুঁকিও কমে আসত। কিন্তু সৈকতের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে এ পথে এগোনো যাচ্ছে না।

করোনায় টানা পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট থেকে সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম সংক্রমণ বাড়াতে পারে, এমন শঙ্কা কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমানের। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকসমাগমের শর্তে সৈকত উন্মুক্ত করা হয়েছিল। এখন মানুষের গিজগিজ অবস্থা শঙ্কাটা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।