আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনার টিকা দেওয়া বাড়ানোর পর দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 169 বার
Link Copied!

কার্যকারিতার হার বিবেচনায় নিয়ে এখনো কেউ কেউ পছন্দের কোম্পানির করোনার টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। তাঁদের ধারণা, ওই কোম্পানির টিকা নিলে তিনি বেশি সুরক্ষিত হবেন। তবে সারা বিশ্বেই এখনো সব কোম্পানির টিকা সহজলভ্য না হওয়ায় কোভিড–১৯–এ গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাণহানি এড়াতে অনুমোদিত টিকাগুলোর যেটা পাওয়া যায়, সেটাই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈশ্বিক এই মহামারি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকায় থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সেই পরামর্শ দিয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, মডার্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন, সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের করোনার টিকা ‘নিরাপত্তা’ ও ‘কার্যকারিতা’র সব শর্ত পূরণ করেছে। আর এখন পর্যন্ত এই ছয়টি টিকার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে স্বল্পতার কারণে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ আছে। বর্তমানে প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যে টিকা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাই নিয়ে নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘আপনার কাছে যে টিকাটি প্রথমেই সহজলভ্য, তা যে টিকাই হোক নিয়ে নিন। এমনকি আপনি ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকলেও। যখনই আপনার সুযোগ আসবে, অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব টিকা নিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত কোনো টিকাই শতভাগ প্রতিরক্ষামূলক নয়, অনুমোদিত টিকাগুলো করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়া থেকে উচ্চ মাত্রায় সুরক্ষা দেয়।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির ফাইজার ও মডার্নার টিকার কার্যকারিতার হার যথাক্রমে ৯৫ ও ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া সিনোফার্মের টিকার কার্যকারিতার হার ৭৯ শতাংশ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৬৭ শতাংশ, জনসন অ্যান্ড জনসনের ৬৬ শতাংশ ও সিনোভ্যাকের ৬৫ শতাংশ। দ্য ল্যানসেট, সিনহুয়াসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকারিতার হারের এই পরিসংখ্যানই অনেককে বিভ্রান্ত করছে। এ বিভ্রান্তি দূর করতে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কীভাবে হয়, সে বিষয়ে জানা উচিত।

টিকার ধরন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কোন ধরনের, তার ওপরও টিকার কার্যকারিতার হার নির্ভর করে। বর্তমানে মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ), এডিনোভাইরাসনির্ভর টিকা, ইনঅ্যাকটিভেটেড ভাইরাস (ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় বা অকার্যকর করা) দিয়ে তৈরি টিকা বাজারে এসেছে।

ফাইজার ও মডার্নার টিকা এমআরএনএভিত্তিক, এডিনোভাইরাসভিত্তিক টিকা জনসন অ্যান্ড জনসন ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং নিষ্ক্রিয় ভাইরাস দিয়ে তৈরি সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকা।

সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাইরাস অকার্যকর বা নিষ্ক্রিয় করে এর কিছু বৈশিষ্ট্য নষ্ট করা হয়। ফলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে না।

এডিনোভাইরাসভিত্তিক টিকায় এডিনোভাইরাসে করোনাভাইরাসের অংশবিশেষ বা স্পাইক প্রোটিন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এডিনোভাইরাস একধরনের ভাইরাস, যা মানুষের খুব বেশি ক্ষতি করে না। এর ফলে মানুষের ঠান্ডাজাতীয় উপসর্গ, জ্বর, গলাব্যথা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগ দেখা দেয়।

আর এমআরএনএ টিকা খুব সম্প্রতি উদ্ভাবিত টিকা। এটি বহিরাগত ভাইরাসের আক্রমণ তুলনামূলক দ্রুত চিনে ফেলে। এতে একটা লিপিড বা তৈলাক্ত আবরণ থাকে। গরম স্থানে রাখলে লিপিড গলে যায়। এ জন্যই মডার্নার টিকা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ও ফাইজারের টিকা মাইনাস ৬০ থেকে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।