ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৪৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন জোর করে কাঁচি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ

দৈনিক স্বরবর্ণ
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ৩:০৩ অপরাহ্ণ
পঠিত: 315 বার
Link Copied!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন জোর করে কাঁচি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মর্মাহত হয়ে নাজমুল হাসান তুহিন (২৫) নামের এক শিক্ষার্থী গতকাল সোমবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিন মাগুরার বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফেরদৌস হিমেল লাঞ্ছিত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত রোববার দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। হলে ঢোকার সময় ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের শিক্ষক রাজিব অধিকারী ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে ওই বিভাগের বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে লাঞ্ছিত পরীক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা ঘটনার প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করতে শাহজাদপুর পৌর শহরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ এখন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁরা ওই ক্যাম্পাসের ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় ফারহানা ইয়াসমিন তাদের সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনায় লাঞ্ছিত একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে ফারহানা ইয়াসমিন চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তাঁর ভয়ে সবাই পরের দিনই চুল ছোট করেন। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে থেকেই দরজার সামনে ওই শিক্ষক কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে তাদের অনেকে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, তাও বলছি না। তবে কয়েক দিন আগে কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা।’ ফেসবুকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য বিভাগের ছাত্ররা গুজব ছড়াতে ফেসবুকে এ সব দিয়েছে। আমার বিভাগের কোনো ছাত্র দেয়নি। এটা গুজব।’ তিনি বদরাগী—শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার একটু রাগ বেশি, ঠিক আছে। কিন্তু আমি কখনো কাউকে বকাঝকা করি না।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবদুল লতিফ বলেন, ‘এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।