ঢাকারবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৪৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

দৈনিক স্বরবর্ণ
অক্টোবর ১, ২০২১ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 207 বার
Link Copied!

গোপালগঞ্জে নিজ বাড়ির পুকুরপাড় থেকে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশে পাওয়া গেছে ‘সুইসাইড নোট’। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী পুলিশের ধারণা, ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছেন।

ওই তরুণের নাম অমিতোষ হালদার। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ায় মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পাটিকেলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের হালদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।
গোপালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার সময় তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মূল কারণ জানা যাবে। আমরা সুইসাইট নোট তদন্তের জন্য সংগ্রহ করেছি।’

নিহত তরুণের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে অন্য দিনের মতোই অমিতোষ তাঁর কক্ষে ঘুমাতে যান। মা–বাবা ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে বাইরের দিক দরজা বন্ধ করে দেন। ভোর সাড়ে পাঁচটায় মা–বাবা ঘুম থেকে জেগে বাইরে বের হতে গেলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ পান। তখন দেখেন অমিতোষ কক্ষে নেই। পরে প্রতিবেশীদের মুঠোফোনে ডেকে এনে দরজা খুলে বাইরে এসে অমিতোষকে গাছের ডালে ঝুলতে দেখেন। প্রতিবেশীরা গাছ থেকে লাশ নামিয়ে পুলিশে খবর দেয়।
পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন থেকে মানসিকভাবে সমস্যায় ছিলেন। তাঁর শিক্ষাবর্ষের বন্ধুদের পড়াশোনা শেষ হলেও তিনি দুই বছর পিছিয়ে ছিলেন। তার ওপর করোনায় দেড় বছর পিছিয়ে গেছেন। কবে পড়াশোনা শেষ হবে, চাকরি করবেন—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন।’

অমিতোষের ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি রাফসান জনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী অমিতোষ হালদার নরম স্বভাবের ছিলেন। অধিকাংশ সময় গম্ভীর থাকতেন। কারও সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। তবে প্রথম দিকে কথা বলে জানতে পারি আর্থিক ও পারিবারিক কারণে তিনি পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিলেন।’

অমিতোষ ২০১০ সালে টুঠামান্দ্রা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে মাদারীপুরে শশীকর কলেজ এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক আজিজুর রহমান বলেন, এক মাস ধরে অমিতোষ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সব সময়ই তিনি কিছুটা মনমরা হয়ে থাকতেন বলে পরিবারের লোকজন জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।