ঢাকাশনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:৩১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘ সময় পেলেও পরিবেশক ও অপারেটর বিদেশি চ্যানেলকে ক্লিন ফিড বা বিজ্ঞাপনমুক্ত করে প্রচার করার জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেয়নি

সুদীপ্ত
অক্টোবর ১০, ২০২১ ১:১০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 173 বার
Link Copied!

বিজ্ঞাপনমুক্ত (ক্লিন ফিড) বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে দেড় দশক আগে ২০০৬ সালে ‘কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন’ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। আইনটির প্রয়োগের জন্য এর চার বছর পর ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বিধিমালা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে আইনটির প্রয়োগে দুটি সরকারেরই তেমন তাড়াহুড়ো ছিল না। তবে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে এ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের পরিবেশক ও কেব্‌ল অপারেটরদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। এরপর চলতি বছরের ১ অক্টোবর আইন প্রয়োগ শুরু করে সরকার।

দীর্ঘ সময় পেলেও পরিবেশক ও অপারেটর বিদেশি চ্যানেলকে ক্লিন ফিড বা বিজ্ঞাপনমুক্ত করে প্রচার করার জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেয়নি। আইনের ১৯(১৩) ধারা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর যখন আইনের প্রয়োগ শুরু হয়, তখন তারা বিজ্ঞাপনমুক্ত চ্যানেলসহ বিদেশি সব চ্যানেলের সম্প্রচারই বন্ধ করে দেয়। তবে দেশের একমাত্র ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) আকাশের গ্রাহকেরা বিজ্ঞাপনমুক্ত কিছু চ্যানেল দেখতে পারছিলেন। সেই চ্যানেলগুলোর বেশির ভাগই সংবাদভিত্তিক।

এই খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আইনটির প্রয়োগ হবে, কেব্‌ল অপারেটর ও পরিবেশকেরা ভাবেননি। তাঁদের ধারণা ছিল, সরকার আরও এক দফা সময় দেবে। এমন ধারণাও কারও কারও মধ্যে ছিল যে অপারেটররা চ্যানেল বন্ধ করে দিলে দর্শকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে। সরকার আবার সময় দেবে। কিন্তু দর্শকদের মধ্যে চ্যানেল বন্ধে কিছু অসন্তুষ্টি থাকলেও সরকারের উদ্দেশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ক্লিন ফিড চ্যানেল দেখানোর জন্য কেব্‌ল নেটওয়ার্ক সিস্টেম ডিজিটাল করা প্রথম শর্ত। এটা হলে পরিবেশক, অপারেটরদের ‘ফাঁকি’ দেওয়ার উপায় থাকবে না। ফলে প্রকৃত গ্রাহকের বিপরীতে ব্রডকাস্টার ও সরকারকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আবার ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপনমুক্ত) চ্যানেলের চেয়ে ডার্টি ফিড (বিজ্ঞাপনযুক্ত) চ্যানেল কিনতে ব্যয় কম হয়। সব মিলিয়ে এ খাতে আর্থিক লাভক্ষতির বিষয় আছে।

কেব্‌ল টিভির বাজার ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। নতুন করে ডিজিটালাইজড বা ক্লিন ফিড চ্যানেজের জন্য নতুন বিনিয়োগ দরকার। সেট টপ বক্সের মাধ্যমে ডিজিটালাইজড করতে গেলে ব্যয় হবে। প্রথম দিকে সব গ্রাহক সেট টপ বক্স না–ও কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গ্রাহক কমে যেতে পারে। অপারেটররা বলছেন, প্রতিটি সংযোগের সঙ্গে সেট টপ বক্স স্থাপনের জন্য গ্রাহককে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা ব্যয় করতে হবে। বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের একজন পরিবেশক বলেন, সরকার শেষ পর্যন্ত তার অবস্থানে থাকলে চ্যানেলের বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচারে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

কেব্‌ল টেলিভিশনের এত বড় ব্যবসা যাঁদের ওপর নির্ভরশীল, সেই দর্শকেরা এখন সবচেয়ে বিপাকে। বিদেশি প্রিয় চ্যানেলগুলো তাঁরা দেখতে পারছেন না। অথচ কেব্‌ল টেলিভিশন দেখতে গ্রাহকেরা প্রতি মাসে অর্থ পরিশোধ করছেন।

দীপ্ত টিভির প্রধান নির্বাহী ফুয়াদ চৌধুরী বলেছেন, ইতিমধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ দর্শক বেড়েছে স্থানীয় চ্যানেলগুলোর। দেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের বাজার বড় হলে অনুষ্ঠানের বাজেটও বাড়বে। এতে দর্শক আরও বাড়বে।

ক্লিন ফিডে যে কারণে আপত্তি

এ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চ্যানেল ক্লিন ফিড করা পরিবেশক বা কেব্‌ল অপারেটরদের কাজ নয়। প্রতিটি ব্রডকাস্টার (চ্যানেল কর্তৃপক্ষ) ক্লিন ফিড ও ডার্টি ফিড আলাদা করে করে। কিনতে খরচ কম হয় বলে বাংলাদেশে ডার্টি ফিড ডাউনলিংক করা হয়।

ব্রডকাস্টাররা বাংলাদেশের জন্য ডার্টি ফিড (বিজ্ঞাপনযুক্ত) করে পাঠায়। এতে ব্রডকাস্টারদের লাভ। কেননা ওই বিজ্ঞাপনের জন্য তারা টাকা পাচ্ছে। পাশাপাশি এ দেশীয় পরিবেশকদের কাছ থেকেও টাকা পাচ্ছে।

১ অক্টোবর শুক্রবার থেকে সব মিলিয়ে ৬৫-৭০টি বিদেশি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশের দর্শকেরা দেখতে পারছিলেন না। তবে ৬ অক্টোবর দেশে ক্লিন ফিড আসা ১৪টি চ্যানেল আবার সম্প্রচারে এসেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সম্প্রচারে থাকা বিদেশি চ্যানেলগুলো হলো বিবিসি, সিএনএন, আল–জাজিরা, এইচডি, ডিডব্লিউ, কেবিএস ওয়ার্ল্ড, এআরআই র‌্যাংগ টিভি, এনএইচকে ওয়ার্ল্ড, সিজিটিএন, রাশিয়া টুডে, ফ্রান্স টিভি, লোটাস, ট্রাভেল এক্সপি এইচডি, আল কোরআন, আল সুন্না, ট্রাভেল এক্সপি ও দূরদর্শন।

বাংলাদেশ কেব্‌ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজের দাবি, ক্লিন ফিড আনা বা সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অপারেটরদের কিছু করার নেই।

অবশ্য একটি সূত্র বলছে, শ্রীলঙ্কার বাজার বাংলাদেশের তুলনায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। অথচ ক্লিন ফিড চ্যানেল ও বিদেশি বিজ্ঞাপন বিষয়ে দেশটির সরকারের অবস্থানের কারণে এ খাতে আয় বাংলাদেশের ৫ গুণ বেশি। এমনকি বাংলাদেশের তুলনায় নেপালের বাজার অনেক ছোট হলেও সেখানে ক্লিন ফিড চালু। ভারতও ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল করেছে। সেখানে কোনো অ্যানালগ পদ্ধতি নেই। ফলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, অপারেটর, পরিবেশক এবং সরকার নিজ নিজ ভাগের টাকা বুঝে পাচ্ছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।