ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায়

সুদীপ্ত
অক্টোবর ২২, ২০২১ ১১:২৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 116 বার
Link Copied!

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় বিচার না হওয়ার ধারা এখনো অব্যাহত আছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায়।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার কৈবল্য ধামে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন রানা দাশগুপ্ত। শ্রীশ্রী কৈবল্য ধাম বোর্ড অব ট্রাস্ট আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় ধাম এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে হাজারো ভক্ত অংশ নেন।

কর্মসূচিতে রানা দাশগুপ্ত বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো বিচার হয় না। আজও এই ধারা অব্যাহত আছে। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তি উৎসাহিত হচ্ছে। এই শক্তি মনে করে, ঠিক একাত্তরের মতো টার্গেট করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে, তাদের ঘরবাড়ি দখল করে, মন্দির-মঠ-গির্জা ধ্বংস করে এবং নারী-মেয়েদের ধর্ষণ করে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায়। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হওয়া এই সর্বনাশা ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে সন্ত্রাসীরা নোয়াখালীর চৌমুহনীতে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামচন্দ্র দেবের সমাধিক্ষেত্র মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই মন্দিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মন্দির প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়েও চৌমুহনীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। হামলায় মন্দিরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শ্রীশ্রী ঠাকুরের দুর্লভ চিত্রপট ও আশ্রমবাসীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁদের মনোবল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা কোনো প্রকারের আর্থিক ক্ষতি দিয়ে নিরূপণ করা যাবে না।

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় চট্টগ্রাম নগরের প্রধান পূজামণ্ডপ জে এম সেন হলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর, মঠ-মন্দিরে হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নগরের মোমিন রোডে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আলোক প্রজ্বালন’ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম নগর শাখা। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আশীষ কুমার ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন, সাবেক সভাপতি অরবিন্দু পাল ও চন্দন কুমার তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সুমন দেবনাথ, রত্নাকর দাশ, প্রকাশ দাশ প্রমুখ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের প্রধান কার্যালয়সহ চট্টগ্রামের ১৬টি থানায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার বিচারের জন্য কমিশন গঠন করতে হবে।

বিকেলে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের কর্নেল হাট এলাকায় মানববন্ধন করেছে উত্তর কাট্টলী সনাতনী সম্প্রদায়। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ কাজ করার সাহস না পায়।

সংগঠনের আহ্বায়ক কনকন দাশ শর্মার সভাপতিত্বে সংগঠক টুনটু দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরুণ তপন দত্ত, আকবর শাহ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সংগঠক যামিনী কুমার দে, চট্টগ্রাম নগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নটু কুমার চৌধুরী প্রমুখ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।