আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী বছর থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সিদ্ধান্ত

জয়িতা দাস
অক্টোবর ২৫, ২০২১ ৯:৩০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 156 বার
Link Copied!

আগামী বছর থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত এই শিক্ষাক্রমের আলোকে এসব শ্রেণির বইয়ের পাণ্ডুলিপিই লিখতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে, সেগুলোও ঠিক হয়নি।

এমনকি নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দেড় মাস আগেই ইতিবাচক মত দিলেও এখনো রূপরেখাটি চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুই মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) যৌথ সভায় শিক্ষাক্রমের রূপরেখাটির চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ার কথা। এমন পরিস্থিতি বলছে, নতুন শিক্ষাক্রম ‘ভালো’ হলেও আসল কাজ, অর্থাৎ বাস্তবায়ন কাজেই গতি কম। এতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে যে চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে, সেটিই বাস্তব রূপে সামনে এসেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করে বলছেন, মাত্র দুই মাস পরেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে। এত কম সময়ে রূপরেখা চূড়ান্ত করে তার আলোকে নতুন বই লেখা হলে তা মানসম্মত না হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমন অবস্থায় আগামী বছর যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে যে শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে, সেগুলোতে একসঙ্গে পুরো বই না দিয়ে অংশবিশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষাক্রমের আলোকে যোগ্যতা অর্জন ও শিখনঘণ্টা হিসাব করে তিন বা চার মাসের জন্য ভাগ ভাগ করে বই দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে এনসিটিবি।
অবশ্য এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ চলছে, তাঁরা আশা করছেন, তাড়াতাড়িই বই লেখার কাজ হয়ে যাবে। আর পরীক্ষামূলকভাবে চালুর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণের কাজও চলছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে। আর এসএসসির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষার কথা নেই নতুন শিক্ষাক্রমে। তা–ও শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে এবং এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। নতুন এই শিক্ষাক্রমকে শিক্ষাবিদেরা ভালো বলছেন। যদিও কেউ কেউ বাস্তবায়ন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের কথাও বলছেন।

সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, আগামী বছর থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। এরপর ২০২৩ সালে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি; ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণি; ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। আর উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, নতুন বইয়ে বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ধরন পাল্টে সহজে শিখনের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এতে তথ্য ও তত্ত্বগত বিষয় কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য এখনকার মতো তিনটি পাঠ্যবই পাবে শিক্ষার্থীরা। আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও ছয়টি বই-ই থাকবে। তবে নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ১০টি বিষয়ে ১০টি বই থাকবে। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।