আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের নথি গায়েবের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হওয়ার এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও দোষী কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি

দৈনিক স্বরবর্ণ
নভেম্বর ৪, ২০২১ ১:২৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 133 বার
Link Copied!

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের নথি গায়েবের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি হওয়ার এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও দোষী কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে এখনো মামলাও হয়নি। এ নিয়ে এখন পুরো বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই অস্বস্তি ও একধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। তাঁরা চান দ্রুত এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হোক। কারণ এই ঘটনার জন্য এখন সবাই বদনামের ভাগীদার হচ্ছেন।

শাহবাগ থানায় হওয়া জিডির ছায়া তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের জের ধরেও ফাইলগুলো সরানো হয়ে থাকতে পারে। একই কারণে গত আগস্টেও একবার ফাইল গায়েব করা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, ঘটনাটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া মামলাও নিতে পারছেন না। আর মামলা না হওয়ায় তদন্ত করতেও কিছু অসুবিধা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাত পৌনে আটটায় যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার বলেন, ওই ঘটনায় স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের আটক ৯ জন কর্মচারীকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেনি সিআইডি। এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলাও হয়নি।

অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের কাজ চলছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাননি তিনি।

জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নথি (ফাইল) অফিসের স্টিলের ফাইল কেবিনেটে রাখা হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর দুপুরে দেখা যায় ফাইলগুলো কেবিনেটের মধ্যে নেই। এরপর ওই শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসচিব নাদিয়া হায়দার শাহবাগ থানায় জিডি করেন। ওই দিনই সিআইডির একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ক্রাইম সিন ইউনিটসহ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের ৯ জন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।

জিডির তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. ইমাম হোসেন বলেন, জিডির তদন্তের অবস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তারা চাইলে মামলা করে আটক ৯ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নথি গায়েবের রহস্যের উদ্‌ঘাটন করবে। আর মন্ত্রণালয় আগ্রহী না হলে সে ক্ষেত্রে সিআইডি মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

জানা গেছে, নথিগুলো ছিল স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও দপ্তরের কেনাকাটাসংক্রান্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতে যেসব বিষয় কেনাকাটা হবে, তার প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য ওই নথিগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এসব ফাইল গায়েব করার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, সেটিও তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তবে চান দ্রুত এই ঘটনার উদ্‌ঘাটন হোক।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।