আজকের সর্বশেষ সবখবর

আয়ের উদ্বৃত্ত হিসেবে এ তহবিল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করে দিয়েছে পেট্রোবাংলা

দৈনিক স্বরবর্ণ
নভেম্বর ১৫, ২০২১ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 145 বার
Link Copied!

গ্রাহকের পরিশোধ করা গ্যাসের দামের একটি অংশ জমা হয় গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে। তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে এ তহবিলের টাকা খরচ করার কথা। কিন্তু নিজেদের আয়ের উদ্বৃত্ত হিসেবে এ তহবিল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এটি ফেরত দিতে এ পর্যন্ত চার দফায় পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে একটি চিঠি দিয়েছে বিইআরসি।

এতে বলা হয়, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের তিন হাজার কোটি টাকা সুদসহ ফেরত দিতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে কমিশন অবহিত নয়। দ্রুত টাকা ফেরত দিয়ে তার প্রমাণসহ কমিশনকে অবহিত করতে চিঠিতে অনুরোধ করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিইআরসির দুজন কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ চিঠির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি পেট্রোবাংলা। টাকা ফেরত না দিলে বিইআরসিও গ্রাহকের মামলার মুখে পড়তে পারে। কমিশনের আদেশে গ্রাহক তহবিলের টাকার আলাদা হিসাব রাখতে বলা হয়েছে পেট্রোবাংলাকে। তাহলে আর এ ধরনের ভুল করার আশঙ্কা থাকবে না। পেট্রোবাংলাকে প্রথম চিঠি দেওয়া হয় গত বছরের ১১ অক্টোবর। এরপর পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও তা নাকচ করে ৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি আবার চিঠি পাঠায় বিইআরসি। টাকা ফেরতের তাগাদা দেওয়া হয় এসব চিঠিতে।

বিইআরসির সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, এটা ভোক্তাদের টাকা। কোনোভাবেই এটি পেট্রোবাংলার উদ্বৃত্ত আয় হতে পারে না। তাই এটি ফেরত দিতে পেট্রোবাংলাকে বারবার চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ এতে সম্মত হয়েছে। ‘শিগগিরই’ এটি তহবিলে ফেরত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে বিইআরসির চিঠির জবাবে পেট্রোবাংলা জানায়, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের হিসাবে থাকা উদ্বৃত্ত আয়ের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে গত বছর একটি আইন করে অর্থ বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল আলাদা না করে সব আয় একসঙ্গে মিলিয়ে হিসাব করে পেট্রোবাংলা। এরপর গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে জমা থাকা ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

এর উত্তরে পেট্রোবাংলাকে বিইআরসি জানায়, পেট্রোবাংলার বক্তব্য সঠিক নয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার নিজস্ব তহবিলে উদ্বৃত্ত ৪ হাজার কোটি টাকা ও পেট্রোবাংলার তহবিলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির শেয়ার বিক্রি বাবদ জমা ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকাসহ মোট ৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেছে অর্থ বিভাগ। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা অর্থ বিভাগের চিঠিতে দেওয়া হয়নি।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।