আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল-চট্টগ্রাম নৌপথে আবার জাহাজ চলাচলের কথা ভাবছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)

জয়িতা দাস
নভেম্বর ২২, ২০২১ ৯:২৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 138 বার
Link Copied!

বরিশাল-চট্টগ্রাম নৌপথে আবার জাহাজ চলাচলের কথা ভাবছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দুটি জাহাজ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ নভেম্বর পরীক্ষামূলক জাহাজ চলতে পারে। বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, এ রুটে চলাচলের জন্য দুটি জাহাজ এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি তাজউদ্দীন এই নতুন পরিকল্পায় এখন বরিশাল পর্যন্ত যাবে। এ ছাড়া সদ্য সংস্কার শেষে ডকইয়ার্ড থেকে আসা এমভি বার আউলিয়াও এ সেবায় যুক্ত হবে। ২০০২ সালে নির্মিত বার আউলিয়ার বিকল একটি ইঞ্জিন পাল্টে নতুন ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থ্রি-অ্যাঙ্গেল ডকইয়ার্ডে নতুন ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে।

২০০৯ সালে বরিশাল-চট্টগ্রাম নৌপথে সরকারি সংস্থার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে বরিশালের নৌ যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বরিশাল থেকে এখন চট্টগ্রামে যাওয়ার সব কটি পথই সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বরিশাল কিংবা ভোলার ইলিশা থেকে মেঘনা পাড়ি দিয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে চট্টগ্রাম যেতে একদিকে যেমন অনেক সময় লাগছে, তেমনি অর্থ ব্যয়ও হচ্ছে প্রচুর। আবার বরিশাল থেকে চাঁদপুর-ঢাকা কিংবা শরীয়তপুর-হরিণা ফেরি পার হয়ে যেতেও লাগছে প্রায় দেড় থেকে দুই দিন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে এই পথে জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বরিশালের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, এই জাহাজ সার্ভিসের সঙ্গে নদীবিধৌত বরিশলের মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা ও অনেক স্মৃতি জড়িত। ষাটের দশকে এই রুটে এবং অন্যান্য রুটে সরকারি সংস্থার জাহাজ চলাচলে কারণে বরিশাল প্রসিদ্ধ নৌবন্দরে পরিণত হয়েছিল। এতিহ্যবাহী সেই জাহাজ সার্ভিস আবার চালু হওয়ার খবর অবশ্যই আনন্দের। তিনি বলেন, ‘এই জাহাজ চালুর মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সঙ্গে কুয়াকাটার একটি নিবিড় যোগাযোগ স্থাপিত হবে। দুই বিভাগের অবারিত পর্যটনশিল্প ও ব্যবসা–বাণিজ্যের বিকাশ ঘটবে।’

বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চার দিন জাহাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত জাহাজ দুটি ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলার সক্ষমতা রয়েছে। সেই হিসাবে চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে পৌঁছাতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না। চট্টগ্রাম থেকে সকাল সাতটায় ছেড়ে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই বরিশালে পৌঁছানো যাবে। ২৫ নভেম্বর পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভাড়া নির্ধারণ শেষে ডিসেম্বর মাস থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন শুরু হবে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে আসার পথে হাতিয়া-সন্দ্বীপ-নোয়াখালী এবং ভোলার ইলিশায় ঘাট দেবে। তৃতীয় ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাশাপাশি প্রতিটি জাহাজে ২৫টি কেবিনসহ ৭৫০টি আসন রয়েছে। বরিশাল থেকে ছেড়ে ভোলার ইলিশা পার হয়ে বাঁয়ে মনপুরা আর ডানে বোরহানউদ্দিনের মির্জাকালু রেখে বঙ্গোপসাগরে নামবে জাহাজ। এরপর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ঢোকার আগপর্যন্ত পুরোটাই সমুদ্রপথ।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘২৫ নভেম্বর আমরা পরীক্ষামূলক দুটি জাহাজ এ পথে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর সার্ভে করে ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো ভাড়া নির্ধারণ ও সপ্তাহে কত দিন এই সেবা দেওয়া হবে, তার সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে এই পথে প্রথম জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। ওই সময় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে বরিশালে পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হয়। পরে অবশ্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রুটটি ঘুরিয়ে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ-হাতিয়া হয়ে বরিশাল করা হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে দিকে নৌপরিবহন করপোরেশন এ পথে চলাচলকারী জাহাজ এমভি তাজুল ইসলামকে বিক্রি করে দেয়। এরপরও বাকি তিনটি জাহাজ চালু থাকে।

পরবর্তী সময়ে এমভি আলাউদ্দিন আহম্মেদকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর জাহাজসংকটে সপ্তাহে মাত্র দুদিন সার্ভিস পরিচালনা করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে মেরামতের কথা বলে এমভি মতিন ও এমভি মনিরুল হককে ডকইয়ার্ডে তোলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।